মিজানুর রহমান আজহারী

বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত

মিজানুর রহমান আজহারী (২৬ জানুয়ারি ১৯৯০) একজন বাংলাদেশি ইসলামি বক্তা[২][৩] ঢাকা জেলার ডেমরায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামি আলোচক হিসেবে তিনি জনপ্রিয় এবং একইসাথে সমালোচিত।[৪][৫][৬] বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি নিজেকে মধ্যমপন্থী ইসলামী আলোচক বলে দাবি করেন।[৭][৮][৯][১০]

মিজানুর রহমান

আজহারী
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম (1990-01-26) ২৬ জানুয়ারি ১৯৯০ (বয়স ৩৩)
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাবাংলাদেশি
সন্তান২ জন
জাতিসত্তাবাঙালি
যুগআধুনিক
ধর্মীয় মতবিশ্বাসআছারী
প্রধান আগ্রহ
উল্লেখযোগ্য কাজতাফসির মাহফিল
যেখানের শিক্ষার্থী

প্রাথমিক জীবন

মিজানুর রহমান[১১] ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ডেমরা থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের পরমতলা গ্রামে।[৮] তার পিতা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও মাতা গৃহিণী। ছোট বেলা থেকে তিনি মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। পরে তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পান। মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে তার নামের সাথে ‘আজহারী’ উপাধি যুক্ত হয়েছে।[৮]

ব্যক্তিগত জীবন

মিজানুর রহমান ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।[৮]

শিক্ষাজীবন

আজহারী দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে যথাক্রমে ২০০৪ সালে দাখিল ও ২০০৬ সালে আলিম পাশ করেন। তিনি উভয় পরীক্ষাতেই বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে মেধাতালিকায় শীর্ষ স্থান অধিকার করেন। ২০০৭ সালে ইসলামি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত মিশরীয় সরকারের স্কলারশিপ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে তাফসির ও কুরআনভিত্তিক বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন।সেখান থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এমফিলের গবেষণার বিষয় ছিল ‘হিউম্যান এম্ব্রায়োলজি ইন দ্য হোলি কুরআন’ (পবিত্র কুরআনে মানব ভ্রূণবিদ্যা)। তারপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। তিনি ‘হিউম্যান বিহ্যাভিয়ারেল ক্যারেক্টারইসটিক্স ইন দ্য হোলি কুরআন অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল স্টাডি’ (পবিত্র কুরআন ও বিশ্লেষণী গবেষণায় মানব আচরণগত বৈশিষ্ট্য)-এর ওপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভাইভার মাধ্যমে সফলভাবে পি.এইচ.ডি. গবেষণা সম্পন্ন করেন।[৮][১২][১৩][১৪][১৫][১৬][১৭][১৮]

কর্মজীবন

আজহারী ২০১০ সালে ইসলামি গজল ও কিরাত দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি এটিএন বাংলা টিভির একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে তিনি ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।[১৯][২০][২১][২২] বৈশাখী টেলিভিশনে ‘ইসলাম ও সুন্দর জীবন’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান করেছেন।[৮]

জনপ্রিয়তা

ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চলেও নিজেকে সমসাময়িকভাবে উপস্থাপন করা ও কুরআন-হাদিস বিষয়ক সহজ-সাবলীল ও গবেষণাধর্মী আলোচনার কারণে অল্প সময়ে তিনি বাংলাদেশের মুসলিম বিশেষত মুসলিম তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার মাহফিলে প্রায়শই তার মাধ্যমে বিভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হন।[২৩] তার তাফসির মাহফিলে সাধারণ মুসলিম ও তরুণদের ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়।[৫][২৪][২৫][২৬]

বই

আজহারির প্রথম বই "ম্যাসেজ: আধুনিক মননে দ্বীনের ছোঁয়া" ২০২১ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়।[২৭]

আজহারির দ্বিতীয় বই "আহ্বান: আধুনিক মননে আলোর পরশ" ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়।

সমালোচনা

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ১২ জন ভারতীয় হিন্দু অবৈধ ভিসায় বাংলাদেশে এসে তার হাতে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হলে তিনি গণমাধ্যমে সমালোচিত হন।[২৮] দেশবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ এনে বিভিন্ন স্থানে তার মাহফিল এক ও একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে।[২৯][৩০] ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে তাকে দেশবিরোধী মন্তব্য প্রদানকারী বলে এক সাংসদ কর্তৃক দাবি করা হয়।[৪][৩১] একই সময়ে ‘‘ঘরে ঘরে সাঈদীর জন্ম হোক’’ বলে মন্তব্য করায় বাংলাদেশের সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাকে "বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রোডাক্ট" বলে অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন।[৬][৭]

২০২১ সালে অক্টোবরে লন্ডনে 'আই অন টিভি'র আমন্ত্রণে ইসলামী কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাজ্যে 'হোম অফিস' ধর্মীয়ভাবে অন্য ধর্মকে আঘাত করা ও ঘৃণা বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় ।[৩২] প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলার করা হলেও ভিসা বাতিলের পক্ষে রায় দেয় আদালত ।[৩৩]

সম্মাননা

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ

🔥 Top keywords: বিশেষ:অনুসন্ধানপ্রধান পাতাপায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রবাংলাদেশবাংলাদেশের জাতীয় বাজেটমিয়া খলিফারবীন্দ্রনাথ ঠাকুরবিড়ালকাজী নজরুল ইসলামশেখ মুজিবুর রহমানএক্স এক্স এক্স এক্স (অ্যালবাম)লোকনাথ ব্রহ্মচারীআফছারুল আমীনবাংলা ভাষাচট্টগ্রাম-১০ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউনবাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের তালিকাপদ্মা সেতুমোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীবাংলা ভাষা আন্দোলনবাংলা বাগধারার তালিকাবাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভারতবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকাইউটিউবহাঁসবাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের তালিকাবিশ্ব পরিবেশ দিবসবিভিন্ন দেশের মুদ্রাপশ্চিমবঙ্গগান বাংলাপ্লাস্টিক দূষণরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রবাংলা প্রবাদ-প্রবচনের তালিকাসবুজ টিয়াবাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতমৈমনসিংহ গীতিকাআমবন বিড়ালশেখ হাসিনাছয় দফা আন্দোলনঢাকা মেট্রোরেলম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবহিন্দুধর্মআসসালামু আলাইকুমবিশেষ:সাম্প্রতিক পরিবর্তনসমূহঘাসফড়িংআনন্দবাজার পত্রিকাফেসবুকবিকাশসুন্দরবনমোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনমুহাম্মাদঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরজীবনানন্দ দাশবেদে জনগোষ্ঠীজিয়াউর রহমানটিয়াবাংলাদেশ আওয়ামী লীগকরমন্ডল এক্সপ্রেসমাইকেল মধুসূদন দত্তজয়নুল আবেদিনকলকাতাবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়জুমার নামাজকৃষ্ণসৌদি আরবযোনিইসলামে বিবাহভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনবকবেগম রোকেয়াসমবায় অধিদপ্তরভারত বিভাজনপিরামিডতুরস্কআল্লাহর ৯৯টি নামবাংলাদেশ সেনাবাহিনীওয়ালাইকুমুস-সালামশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর (বাংলাদেশ)রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকুরআনইসলামচট্টগ্রামটেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাজীববৈচিত্র্যরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন (১৮৬১–১৯০১)স্বামী বিবেকানন্দবাংলাদেশী টাকামুঘল সাম্রাজ্যঢাকাবিশ্ব দিবস তালিকাবাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায় সারণীঅণুজীব